সুখ কি?

সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।[১] জৈবিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিকদর্শনভিত্তিক এবং ধার্মিক দিক থেকে সুখের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর উৎস নির্ণয়ের প্রচেষ্টা সাধিত হয়েছে। সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। গবেষকেরা [২] একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব। মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্ত্বিক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন। এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগসমূহের সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়: আনন্দ, অঙ্গীকার এবং অর্থ।

এটি সুখের একটি পরিচিত চিহ্ন

গবেষকগণ কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন যেগুলো সুখের সাথে পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত: বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্ক, বহির্মুখী বা অন্তর্মুখী অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, আশাবাদ, ধর্মীয় সম্পৃক্ততা, আয় এবং অন্যান্য সুখী মানুষের সাথে নৈকট্য।

সমাজে ধনী,গরিব,সুখী,অসুখী; বিভিন্ন ধাঁচের মানুষের বসবাস।তবে বর্তমানে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া সোনার পাথর বাটির মতো। সকলেই সুখী হতে পারে না। তবে সুখী হতে পয়সা লাগে না। নিজের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই সুখী হওয়া সম্ভব। নিজের যতটুকু আছে তন্মধ্যে সন্তুষ্ট থাকলে, আনন্দ খুঁজে পেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছু না। সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।

তবে মনে রাখতে হবে, ধনবান ব্যক্তি হলেই সুখী হওয়া যাবে, তা নয়। ছোট কুটিরেই সুখ লাভ করা যায়।

সংজ্ঞাসম্পাদনা

দর্শনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় চিন্তাবিদরা প্রায়ই আবেগের পরিবর্তে একটি ভালো জীবন বা সমৃদ্ধশালী জীবনধারণের ক্ষেত্রকে সুখ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন । এই অর্থে সুখকে অনুবাদ করার জন্য গ্রিক eudaimonia ব্যবহৃত হতো, এবং এখনও নৈতিকতার নীতিতে ব্যবহার করা হয়। সময়ের সাথে সাথে একটি পরিবর্তন হয়েছে যেখানে গুনের সাথে সুখের সম্পর্কের চেয়ে সুখের সাথে গুনের সম্পর্কের উপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে । সহস্রাব্দ ঘুরে আসার পর থেকে, বিশেষ করে অমর্ত্য সেনের মানবিক বিকাশের পদ্ধতিটি উন্নত হয়েছে তার ফলে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের উপর আগ্রহ বেড়ে গেছে । বিশেষত মার্টিন সেলিগম্যান, এড ডায়নার এবং রুউৎ ভেনহোভেনের কাজ, এবং পল আনন্দ এর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং চিকিৎসা গবেষণায় ব্যাপক অবদানের ফলে এই বিষয়ের গুরুত্ব বেড়ে যায় ।

১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থমাস জেফারসন দ্বারা লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ব্যাপকভাবে আলোচিত রাজনৈতিক মূল্যবোধ ছিল কারণ তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “সুখের অনুধাবন করা” একটি সর্বজনীন অধিকার । মনে হচ্ছে এটি একটি বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যা করার কথা বলে তারপরেও তা একাই আবেগ অতিক্রম করে । আসলে, এই আলোচনাটি প্রায়শই সহজ ধারণার উপর ভিত্তি করে চলতেছে যে সুখ শব্দটি একই জিনিস বোঝায় যা ১৯৭৬ সালে ছিল এবং আজও তাই আছে । প্রকৃতপক্ষে, অষ্টাদশ শতকে সুখ বলতে বুঝাতো “সমৃদ্ধি, উন্নতি এবং সুস্থতা”।

আজকাল সুখ একটি ঝাপসা ধারণা এবং ভিন্ন ভিন্ন লোকের কাছে তার অর্থ ভিন্ন মনে হতে পারে । সুখের বিজ্ঞান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল সুখ নিয়ে বিভিন্ন ধারণা চিহ্নিত করা এবং যেখানে প্রযোজ্য সেই অনুযায়ী তাদের উপাদানগুলিকে বিভক্ত করা । প্রাসঙ্গিক ধারণাগুলি হচ্ছে সুস্থতা, জীবনের মান এবং সমৃদ্ধি । অন্তত একজন লেখক সুখকে তুষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন । কিছু ভাষ্যকার আনন্দবাদী ঐতিহ্যের মাধ্যমে সুখকে অনুসন্ধান এবং অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাগুলোকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে ইউডামোনিক উপায়ে জীবনকে পুরোপুরি এবং গভীরভাবে ও পরিতৃপ্তির সাথে উপভোগ করার উপর বেশি জোর দেন।

২০১২ সালের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত কল্যাণমূলক পদক্ষেপে, প্রাথমিক বিশুদ্ধতম জীবনের মূল্যায়ন এবং মানসিক প্রতিবেদনগুলির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা । সুখকে উভয় জীবন মূল্যায়নে ব্যবহার করা হয়, যেমন “মোটের উপর আপনি আপনার জীবনে কতটা সুখী?” এবং মানসিক প্রতিবেদনে, “এখন আপনি কতটা সুখী?” এবং লোকেরা এই ধরনের মৌখিক contexts এ সুখকে উপযুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে হয়। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস প্রতিবেদনগুলি এই পরিমাপ পদ্ধতিগুলির মাধমে সুখের সর্বোচ্চ স্তরের দেশগুলিকে চিহ্নিত করে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *